জীবাণু
কচি খন্দকার
ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়েছি,
কবিতার জীবাণু আমার শরীরে প্রবেশ করেছে।
হড়হড় করে কবিতা এসে যাচ্ছে,
শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কবিতা এসে যাচ্ছে,
কাব্যের কোনো কিছু ধার না ধেরেই এসে যাচ্ছে।
কবিতা গব গবিয়ে এসে যাচ্ছে।
হাভাতের মতো এসে যাচ্ছে,
জীবনানন্দের মতো আসছে না,
রূপসী বাংলার মতো করে আসছে না,
রাক্ষসীর মতো আসছে যেন সব কিছুই খেয়ে ফেলবে।
প্রকৃতি নারী ফুল কিছুই রক্ষা পাবে না।
ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়েছি কবিতার জীবাণু আমার শরীরে প্রবেশ করেছে।
কবিতার মাথা-মুন্ডু কিছুই রক্ষা পাবে না।
যে যেখান থেকে পারে বের হয়ে আসবে।
এত এত কবিতা কোথায় ছাপা হবে?
পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরে যাবে, আর পৃষ্ঠা পাওয়া যাবে না।
মাঠে ঘাটে রাস্তায় ছাদে কবিতা লেখা হবে,
গাছের ছালে বাকলে মানুষের টাকে কবিতা লেখা হবে,
হাতের তালুতে বুক চিড়ে কবিতা লেখা হবে,
পাল তোলা নৌকার পালে কবিতা লেখা হবে,
কৃষকের মাথালে কবিতা লেখা হবে,
মাছ ধরে মাছের শরীরে কবিতা লেখা হবে।
এসে যাচ্ছে সব কিছু ছাপিয়ে কবিতা এসে যাচ্ছে।
জীবাণু বড় ভয়াবহ ওকে বিনাশ না করলে কবিতা এসে যাবে।



