• ১৮৯৯ সালের এই দিনে জন্মেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মহান কবি বাংলা সাহিত্যে, সংগীতে ও রাজনৈতিক চেতনায় এনেছিলেন এক নতুন জাগরণ। নজরুল একাধারে ছিলেন বিংশ শতাব্দীর  অন্যতম প্রধান বাঙ্গালি কবি,উপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ । অসাধারণ ছিল তার গলার সুর। তার মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তাঁর প্রধান পরিচয় তিনি কবি।
  • তিনি ছিলেন এক সমাজচেতা, এক বিদ্রোহী আত্মা, যিনি সাম্য, মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে কলম ধরেছিলেন। তাঁর কলম ছিল একদিকে প্রেমের আরাধনা, অন্যদিকে শোষণের বিরুদ্ধে বজ্রনিনাদ।
    তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।
    ১৯২২ সালে প্রকাশিত “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে নজরুল এই উপাধি অর্জন করেন। এই কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল “বিজলী” পত্রিকায় এবং পরবর্তীতে তাঁর “অগ্নিবীণা” কাব্যগ্রন্থে স্থান পায়।
  • “বিদ্রোহী”, “ভাঙ্গার গান”, “চল চল চল” কিংবা “কান্ডারী হুঁশিয়ার”—এমন অসংখ্য কবিতা ও গান আমাদের জাতীয় চেতনাকে করেছে দৃঢ় ও দীপ্তিময়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন তিনি, গেয়েছেন সাম্যের গান।
    “এসো ভাই হিন্দু! এস মুসলমান! এস বৌদ্ধ! এস ক্রিশ্চিয়ান! আজ আমরা সব গণ্ডি কাটাইয়া, সব সংকীর্ণতা, সব মিথ্যা সব স্বার্থ চিরতরে পরিহার করিয়া প্রাণ ভরিয়া ভাইকে ভাই বলে ডাকি। আজ আমরা আর কলহ করিব না”
  • কাজী নজরুল ইসলামের আহ্বান আজকের দিনেও বড় প্রাসঙ্গিক। আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা নতুন করে শপথ নেই—নজরুলের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলবো।
  • শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি আমাদের প্রিয় নজরুলকে।
Leave A Reply

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত II আওয়াজ বাংলা. Designed by Prime Digital Agency.
Exit mobile version